অভিশপ্ত কুপ😮😮


গ্রামের সরু রাস্তায় দুপাশে ফসলি জমি।ছোট্ট একটা ব্রীজ ।সেই ব্রীজে বসে খালেদ ও আমি গল্প করছি।মাঝে মধ্ে রাস্তা দিয়ে দুএকটা গাড়ি গেলে ধুলোবালিতে ছেয়ে যায় চারপাশে।

একটি গাড়ি আসতেছে দেখে দু্জনেই ব্রীজ থেকে নেমে সরে গেলাম।যাতে ধুলোবালি গায়ে না লাগে।খালেদ বলে,রোকনের নাকি নতুন একটা গার্লফ্রেন্ড হয়েছে।রোকনের সাথে খুব সখ্যতা ঘড়ে উঠেছে।

রোকন আমাদেরই এক বন্ধু।এছাড়াও আমাদের আরো কয়েকজন বন্ধু আছে ।যা আপনারা পরে জানতে পারবেন।আমি বললাম এ্্্্্ আর নতুন কি। রোকন তো দুইদিন পরপর গার্লফ্রেন্ড বদলায়।তার কথা বলে লাভ নেই।

খালেদ ও আমি রাস্তা দিয়ে হাঁটছি আর গল্প করছি।আমি বললাম আচ্ছা সিদ্দিক এর কি খবর?

খালেদ বলে ,আর বলিস না।ও তো একটা ভিতু।পুরো ভিতুর ডিম।দিনের বেলায় যে ভয় পেয়ে ঘরে বসে থাকে,তার কথা কি ই বা বলব।খালেদ বললো দোস্ত রোকনের গার্লফ্রেন্ড টা কিন্তু সেই …🔞!আমি বললাম,তুই দেখেছিস নাকি?খালেদ বলে দেখেছি মানে ,না দেখে এই খালেদ কখনো মন্তব্য করে না।

আচ্ছা তুই অন্য জনের গার্লফ্রেন্ড নিয়ে এতো মাতামাতি করিস কেন?নিজে তো একটা মেয়েকেও পেটাতে পারলি না।খালেদ বলে,দোস্ত মেয়েরা পটবে কেন?আমিই তো পাত্তা দেই না মেয়েদের।

হয়েছে চাপা বাদ দে।এবার চল বাড়ি যায়।দুজনেই বাড়িতে চলে গেলাম।

রাতের বেলা পাড়ার দোকান থেকে চা খেয়ে বাড়ি ফিরছি।পথিমধ্যে সিফাতের সাথে দেখা।সিফাত বলে কিরে দোস্ত রোকন নাকি নতুন একটা গার্লফ্রেন্ড জুটিয়েছে।আর মেয়েটা নাকি দেখতে একেবারে ........🔞❗

আমি বললাম সবাই তো তাই বলছে।তো চল একদিন সময় করে রোকনের গার্লফ্রেন্ড কে দেখে আসি।যেই কথা সেই কাজ, খালেদ বলে চল তাহলে কাল যাই।

রোকনকে ফোন দিলাম।আমরা তিন বন্ধু একসাথে বসে রোকনের সাথে কথা বলতেছি।কিরে রোকন,তোর গার্লফ্রেন্ড কে দেখাবি না?

অপর পাশ থেকে রোকন বলে,তোরা একদিন সময় করে আয়।আমি এখন বিজি আছি।পরে কথা হবে।

সবাই মিলে আড্ডা দিতে থাকি আমরা।অনেক্ষণ চলে সে আড্ডা।

রাত তখন আনুমানিক দশটা বাজে ।তখন রোকনের ফোন আসে।রোকন বলে দোস্ত তোরা চলে আয়।আমার গার্লফ্রেন্ড কে দেখবি না?আমি বললাম এই রাতের বেলা?এতো রাতে দেখাবি কেন?দিনের বেলা ভাবির সাথে পরিচয় করিয়ে দিস,তাহলেই তো হয়।

রোকন বলে না রে ও বলেছে রাতের বেলায় দেখা করবে।আমি বললাম এতো রাতে ভাবি আমাদের সাথে দেখা করবে তো?হ্যাঁ রে রোকন বলে।

তোরা চলে আয়।আমি খালেদ ও সিফাতকে কল দেয়।তারা সবাই একসাথে হওয়ার পর আমরা সবাই মিলে চলে যায়।

তখন রাত দশটার বেশি বাজে।আমি সবাইকে বললাম একটা বেপার বুঝলাম না,তার গার্লফ্রেন্ড কে এই রাতের বেলা দেখা করাবে আমাদের সাথে।

রাতের বেলায় কেন?

আচ্ছা যাই হোক চল দোস্ত যাওয়া যাক।সবাই মিলে গ্রামের রাস্তা ধরে হাঁটছি।হাটতে হাটতে একসময় রোকনের বাড়ি চলে আসি।রোকন বলে দাড়া আমি আসছি।

আমরা বললাম দোস্ত এই দুদিনে তুই এতো ক্লোজ হয়ে গেলি।আমি বলি ভাবি মনে হয় খুবই সুন্দর। রোকন বলে সাবধান, শুধু সুন্দরই ন।তোদের ভাবি পরির মতো দেখতে।

আচ্ছা ভাবির বাড়ি কোথায়?রোকন বলে ঐ তো সামনের গ্রাম পেরোলেই।

খালেদ বলে ঠিক আছে চল তাহলে।সবাই আমরা হেটে রওয়ানা দেই।আমি বললাম,আচ্ছা রোকন,এতো রাতে কি ভাবি বাড়ি থেকে বের হবে?

রোকন বলে আমি তার সাথে কথা বলেছি,সে তাদের বাড়ির পাশে একটা বটগাছ আছে সেখানে দেখা করবে।

সিদ্দিক বলে উঠে আ্্্্ররে এতো জায়গা থাকতে বট গাছে কেন?আমি বলি আরে বেটা ,বটগাছে না,বটগাছের কাছেই।

সিদ্দিক তো এমনিতেই ভিতু।সে খুব ভয় পাচ্ছে। সে ভয় পেয়ে সবার সামনে সামনে হাটে।কোনসময় আবার সবার মাঝখানে হাটে।

একসময় আমরা সবাই সেই বটতলা তে চলে আসি।

চারপাশে খুবই অন্ধকার।সিদ্দিক ভয় পাচ্ছে।আমি সিদ্দিক কে ধমক দিয়ে বলতে থাকি,বেটা পুরুষ মানুষের আবার কিসের ভয়।তুই শুধু শুধু ভয় পাস।

আমি রোকনকে বলি,আচ্ছা দোস্ত ভাবি কই?তুই না বলেছিলি ভাবি এখানে আসবে।ভাবি কি আদৌ এখানে আসবে?রোকন বলে হ্যাঁ রে ওর সাথে আমার কথা হয়েছে।

❌কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ❌

একসময় রোকন বলে ,ঐ তো তোদের ভাবি।সবাই মিলে তাকায় সেদিকে।কোথায়?ভাবিকে তো দেখতে পাচ্ছি না।

ঐ যে সামনে দেখ রোকন বলে।খালেদ বলে ভাবি কে তো দেখাই যাচ্ছে না।সবাই আস্তে আস্তে সামনে এগোলেও সিদ্দিক ভয়ে ভয়ে সবার পেছনে হাটে।

আমি দেখি বটগাছের পাশে কিছুটা জঙ্গল টাইপের।সেখানেই পাশে একটা পরিত্যক্ত কুয়ো নজরে আসে আমাদের।রোকনের গার্লফ্রেন্ড সেই কুয়োর কাছেই দাড়িয়ে আছে।

তার কাছে যাবার আগে আমি সবাইকে বলতে থাকি এতো রাতে এখানে একটি মেয়ে,তাও সে একা ।সাথে কোনো লাইট বা কোনো আলো নেই।

খালেদ বলে দোস্ত সে এটা সাহসী মেয়ে।আর আজকালকার যুগে ভিতু মেয়ে খুব কমই হয়।এই মেয়েটি বেশি সাহসী তাই হয়তো এভাবে দেখা করবে।তখনই রোকন বলে উঠে কিরে কি বললি তুই? মেয়ে বললি কেন?ভাবি বল ভাবি।খালেদ রেগে বলে,তোর হবু বউকে কি আমি ভাগিয়ে নিয়ে যাব নাকি?যেভাবি বলছিস তুই।

রোকন মেয়েটির কাছে যায়।ও কিছুক্ষণের মধ্ রোকন সবাইকে ডাকে।আমি ,খালেদ,ও সিফাত আগে গেলেও সিদ্দিক ভয়ে ভয়ে আমাদের পিছু হাটছে।

একসময় সবাই রোকনের গার্লফ্রেন্ড এর কাছে গেলাম।আমি দেখি মেয়েটি লম্বা করে একটি ঘোমটা দিয়ে রেখেছে।ভালো করে চেহারা দেখা যাচ্ছে না।হালকা সাদা ও বাদামী রঙের পোষাক পড়েছে মেয়েটি।

সিদ্দিক আমাদের মাঝখানে দাড়িয়ে আছে।রোকন একে একে সবার পরিচয় করিয়ে দেয়।তারপর মেয়েটিও ঘোমটার ফাকে কথা বলে।কি সু্ন্দর কন্ঠস্বর। আহা দেখতে না জানি কতো সুন্দর।

সিফাত বলে ভাবি আপনার নাম কি?ঘোমটার ফাক থেকে আওয়াজ এলো ইশিতা।সবাই বলে বাহ্ খুব সুন্দর নাম তো।রোকন ও মেয়েটি পাশাপাশি দাড়িয়ে আছে।মেয়েটি রোকনের চেয়েও কিছু টা লম্বা।

এত লম্বা মেয়ে পাওয়া খুবই দুস্কর আমি ভাবতে থাকি। মেয়েটিকে জিগ্যেস করি,আচ্ছা ভাবি আপনারা দুজন প্রথম দিন কোথায় দেখা করেছিলেন?

রোকন বলতে থাকে সে এক কাহিনী। আমি বলি সেটা আমি তোর মুখ থেকে নয়,ভাবির মুখ থেকে শুনতে চাই..!তখনই মেয়েটি বলে সেদিন সন্ধ্যার পর এদিক দিয়ে বাড়ি যাচ্ছিল। হঠাতই মেয়েটিকে কয়েকটি কুকুর তাড়া করে।

❌কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ❌

সেই সময় রোকন এখানে ছিল,সে এসে কুকুরগুলো তাড়িয়ে দিয়েছিল।তারপরে তার সাথে আমার ভাববিনিময় হয়।

হঠাৎই আমার চোখ যায় সিদ্দিক এর পায়ের দিকে।দেখি সিদ্দিক কাপতেছে।তার দিকে তাকিয়ে দেখি,সে মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ভয়ে ভয়ে কাঁপছে।আমি সিদ্দিক কে স্পর্শ করে বলতে লাগলাম বেটা ভয় পাচ্ছিস কেন আমরা আছি না!

আমি নাকে একটা পঁচা মাংসের গন্ধ পেলাম।ভাবলাম এতো রাতে এখানে পঁচা মাংসের গন্ধ কোথা থেকে এলো।

আমি মেয়েটিকে বললাম আচ্ছা ভাবি আপনি এখন এই সময় যে আমাদের সাথে দেখা করতে এসেছেন,আপনার ফেমিলির লোকজন কি আপনাকে খোঁজাখুঁজি করবে না?

ঘোমটার ফাকে ইশিতা বলে না।আমি কোথাও বের হলে কখনো কাওকে বলে বের হয় না।

হঠাৎই দেখি একটা কুকুর আসছে আমাদের দিকে।আর তখনই ইশিতা বলতে থাকে আমার কুকুর খুব ভয় লাগে।কুকুরটাকে তোমরা তাড়াও এখান থেকে।খালেদ বলে ভাবি আমরা আছি তো কুকুর আপনাকে কিছুই করতে পারবে না।

কুকুরটি ইশিতা নামের মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করেই চলছে।দেখি ইশিতা সেখান থেকে চলে যেতে লাগলো।আমরা তাকে যেতে দিলাম না।ভাবি আমরা আছি তো বললাম।আর আপনার বিশেষ খেয়াল রাখার জন্ তো রোকন তো আছেই।

এতোগুলো মানুষ থাকতে কুকুরটি কেন সেই মেয়েটির দিকেই তাকিয়ে ডাকছে।বেপারটি আমার কাছে ভালো ঠেকলো না।একসময় দেখি মেয়েটি কুকুরটির দিকে তাকাতেই,কুকুরটি সাথে সাথে সেখান থেকে ভয়ে চলে যায়।

রোকনকে বললাম আচ্ছা ভাবির চেহারা টা তো একটু দেখা।এতক্ষণ হয়ে গেল গল্প করছি।ভাবি সেই ঘোমটা দিয়ে কথা বলছে।

রোকন মেয়েটিকে ঘোমটা সরাতে বলে।মেয়েটি ঘোমটা সরাতেই সবাই চমকে যায়।আরে এত সুন্দরী একটা মেয়ে।যে কিনা রোকনের গার্লফ্রেন্ড।

খালেদ ও সিফাত দেখে তো পুরাই অবাক।আরে কত দিন যে মেয়ের পিছনে ঘুরেছি।আজ পর্যন্ত একটাকেও পটাতে পারলাম না।আজ দেখছি রোকনের মতো একটা গেয়ো টাইপের ছেলে এতো সুন্দর একটা মেয়েকে গার্লফ্রেন্ড বানিয়েছে।

আমার মতে মেয়েটি অনেক সুন্দরী ছিল।সিদ্দিক এতক্ষণ ভয় পেলেও এখন সেও বলতে থাকে।আমাদের ভাবি তো খুবই সুন্দর। তো ভাবি এই সুন্দরের রহস্য টা কি?একথা শুনে মুচকি হাসে ইসিতা নামের মেয়েটি।

খালেদ ও সিফাত কে দেখলাম মেয়েটির দিকে কেমন যেন লোভাতুর দৃষ্টি তে তাকাচ্ছে।আমি বললাম ভাবি আজ তাহলে আসি।আপনি আমাদের বাড়িতে আসবেন কিন্তু ।মেয়েটি মাথা নেড়ে বলে হ্যাঁ যাব।আমি সবার বাড়িতেই যাব।আমি ভাবছি ,বললাম আমাদের বাড়িতে যেতে,সে কিনা বলে সবার বাড়িতেই যাবে।

সিদ্দিক,সিফাত,খালেদ ও আমি সবাই মেয়েটিকে বিদায় জানিয়ে সেখান থেকে ফিরছি।তখনও রোকন মেয়েটিকে কি যেন বলছে।রোকন ও ফিরে আসে একসময়। আমি বলি আরে ভাবিকে একা ছেরে তুই আসছিস কেন?ভাবিকে বাড়িতে পৌছে দিয়ে আয়।

রোকন বলে না।সে একাই যেতে পারবে।একথা বলে সবাই আমরা সামনের দিকে হাটতে থাকি।খেয়াল করি খালেদ ও সিফাত বারবার পিছন পিরে মেয়েটিকে দেখছিল।আর মেয়েটিও কেমন যেন তাদের দেখে হাসছিল।

একসময় আমরা সবাই চলে আসলাম।

রাতে আমি ঘুমিয়ে আছি।হঠাৎই আমি শুনি কে যেন আমাকে নাম ধরে ডাকছে।আমি বিছানা ছেড়ে উঠি।দরজা খুলতে খুলতে আরো দুইবার ডাকে আমাকে।

মনে হচ্ছে কোন মেয়ে হবে।মেয়েলী কন্ঠে আমার নাম ধরে সমানে ডেকেই চলছে।

বি : দ্র ভয়ের শুরু এই ২য় পর্ব থেকে।

অভিশপ্ত কুয়ো

২য় পর্ব

দরজা খুলে দেখি বাহিরে কেউ নেই।এতো রাতে কে হতে পারে ?কে ডাকে আমাকে?ভাবতে ভাবতে সামনের দিকে এগোতে লাগলাম।আবারো আমাকে ডাকছে,সেই ডাকটি ফলো করে সামনের দিকে এগোতে থাকি।

হঠাৎই দেখি আমাদের বাড়ির পিছনে কুয়োর আশপাশ থেকে আওয়াজ টি আসছে।অন্ধকারে ,,,,,ভালো করে দেখা যাচ্ছে না।কুয়োর কাছে কি যেন একটা দেখা গেল...!

আমি কাছে যাওয়ার আগেই সেটি কুয়োর ভেতর চলে যায়।কুয়োর কাছে যাওয়ার সাহস পেলাম না।কুয়োটা অনেক পুরনো ।ছোটবেলা থেকেই এই কুয়ো সম্পর্কে নানান কাহিনী শুনে এসেছি।

তখনই শুনি কুয়োর ভেতর থেকে মেয়েলী কন্ঠে বলতে থাকে,বাঁচাও বাঁচাও।আমি শুনেও বাড়িতে চলে আসি।

পরদিন আমরা সব বন্ধু মিলে আড্ডা দিচ্ছি। তখন সিদ্দিক বলে সে নাকি রাতের বেলা ঘুমের মধ্যে

কারো ডাক শুনতে পায়।তার ঘুম ভাঙলে ,সে শুনতে পায় বাহির থেকে কোনো একটা মেয়েলী কন্ঠ তার নাম ধরে ডাকছে।সিদ্দিক তো ভিতু তাই সে ঘর থেকে বের হবার সাহস পায়নি।

সিফাত বলে সে কিছু শুনতে পায়নি।তার মা নাকি শুনেছে,যে রাতের বেলা সিফাতের নাম ধরে কে যেন ডাকছে।সিফাত তখন গভীর ঘুমে।

খালেদ কে বললে সে বলে আমাকে ডেকেছিল ,আমি বের হয়েছিলাম।আর বের হবো না কেন!একটা মেয়ে ডাকছে আমায়।আমি কি না বের হয়ে পারি।আমরা সবাই বললাম মেয়েটি যদি বাস্তবে কোনো খারাপ অশরীরী আত্না বা খারাপ জ্বীন হয়ে থাকে।তাহলে কি করবি?খালেদও মজা করে বলে ফেলে। তাহলে আর কি, যা হবার তাইতো হবে।

কিছুক্ষণ পর আমরা হাটতে হাটতে সেই জায়গাটায় চলে যায়,যেখানে দুদিন আগে রোকনের গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা হয়েছিল।আমরা সবাই সেখানে থাকা একটা কুয়োর কাছে যাই কিছুক্ষন সেখানে আড্ডা দিয়ে, একসময় আমরা সেই পুরনো কুয়োর কাছে গিয়ে বসি।সিদ্দিক,খালেদ ও সিফাতও ছিল।

আমরা গল্প করার এক ফাকে, আমি বলে ফেলি,,আচ্ছা এখন যদি এই কুয়ো থেকে কোনো অশরীরী বা খারাপ আত্না আসে?তাহলে কি করবি তোরা?খালেদ তো একথা শুনে হাসতে থাকে।খালেদ বলে,এসব আত্না টাত্না আমি বিশ্বাস করি না।আর যদি সত্যিই এই কুয়ো থেকে একটা মেয়ে বা মেয়ের আত্না উঠে আসে।তাহলে আমি তাকে বিয়ে করতে রাজি।তোরা তো জানিসই যে,আমার কোনো গার্লফ্রেন্ড নেই।

সিদ্দিক বলে নারে দোস্ত, এসব বলিস না।যদি সত্যি কিছু থেকে থাকে,তাহলে কি করবি?

খালেদ আবারো হাসে।বলে বিয়ে করবো সেই অশরীরী মেয়েটিকে।একথা শুনে সিফাত ও আমি মুচকি হাসি।সেইদিনের আড্ডা শেষ হলে যে যার মতো বাড়ি চলে আসি।

আমি খালেদের বাড়িতে গিয়েছি।আজ রাতটা আমি তাদের বাড়িতেই থাকবো।রাতে ঘুমিয়ে।হঠাৎই আমার কানে একটা মেয়েলী কন্ঠ ভেসে আসে।কান পেতে শুনি, মেয়েলী কন্ঠ টি খালেদ কে নাম ধরে ডাকছে।এ্্্কি এতো রাতে একটি মেয়ে বাহিরে!তাও আবার সমানে খালেদের নাম ধরে ডাকছে।

আমি ভাবছি কি করা যায়।গিয়ে দেখবো নাকি কে ডাকে..।না যাওয়া ঠিক হবে না।এতো রাতে যাওয়া ঠিক হবে কি?এসব ভেবে চিন্তা করলাম আচ্ছা গিয়ে দেখি কে ডাকছে।

দরজা খুলে দেখি বাহিরে প্রচন্ড অন্ধকার। চারিদিক অন্ধকারের জন্য ভালোভাবে দেখা যাচ্ছে না।হঠাৎই আমি দেখি একটা কালো অবয়বের মতো কি যেন পাশের জঙ্গল থেকে বেরিয়ে সামনের পুকুর পাড়ের দিকে গেল।

❌কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ❌

আমি আর দেরি না করে পিছু নিলাম,যে দেখি কি ছিল সেই অবয়ব টি!সামনে এগিয়ে আমি দেখতে পাই পুকুর পাড়ে খালেদ দাড়িয়ে আছে।সে পুকুরের পানিতে তাকিয়ে আছে!

পাশের একটি কদম গাছের আড়ালে লুকিয়ে আমি সব দেখছি।আমি দেখি খালেদ পুকুরের পানিতে যে জায়গায় তাকিয়ে আছে,সেখানে একটি মেয়ে।মেয়েটি খুবই সুন্দর। দেখলেই কেমন যেন মায়া লাগে।

মেয়েটি বারবার বলছে বাঁচাও বাঁচাও।আমাকে বাঁচাও।মেয়েটি মাঝপুকুরে ডুবে যাওয়ার উপক্রম।খালেদ দেখছে মেয়েটিকে।খালেদ মেয়েটির দিক থেকে চোখ সরাতে পারছে না।

মেয়েটির চিৎকার শুনে খালেদ পুকুরের পানিতে লাফ দেয়।খালেদ অন্ধকার পুকুরে সাঁতরে সাতরে মেয়েটির কাছে যেতে থাকে।তখনই মেয়েটি একটা ভয়ানক ডাইনির রূপ ধারন করে।দেখতে কি বিভৎস ও ভয়ানক।

খালেদ একেবারে কাছে গিয়ে দেখে এটা তো মেয়ে না।ভয়ানক একটি অশরীরী। হঠাৎই আমি আমার ঘাড়ে কারো স্পর্শ পেয়ে আতকে উঠি।ভয়ে ভয়ে পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি খালেদ আমার পেছনে দাড়িয়ে আছে।

আমি এটা দেখে খুবই ভয় পাই।খালেদ এখানে তাহলে পুকুরে ঐটা কি?এটা ভেবে পুকুরে তাকিয়ে দেখি পুকুরের পানিতে কেউ নেই।কিছুক্ষণ আগেও যে পুকুরটি পানির নরাচরা করছিল।আর এখন নিমিষেই পানির নরাচরা বন্ধ গেল।আমার সাথে ঘঠছে কি এসব!!!খালেদকে আমি সব খুলে বলি।

খালেদ আমার মুখ থেকে এসব শুনে অদ্ভুত ভাবে হাসে।আমি বলি দেখ এখন হাসির সময় না।হঠাৎই আমি রুমের ভেতর কারো চিৎকারর আওয়াজ শুনি।তারাতারি রুমে গিয়ে দেখি রুমের মধ্ে খালেদ বসে আছে।

আমি তখন খুবই ভয় পাই।খালেদ ঘরে থাকলে তাহলে আমি যার সাথে এতক্ষণ গল্প করলাম,তাহলে সে কে?আমি ঘরে এসে খালেদকে সবকিছু খুলে বললাম।

খালেদ বললো,সে নাকি স্বপ্ন দেখেছে।স্বপ্নটা নাকি খুবই ভয়ানক ছিল তাই সে স্বপ্ন দেখে ভয়ে চিৎকার দেয়।আমি বললাম তুই কি স্বপ্ন দেখেছিস?খালেদ বলে সে নাকি ঘুমের মধ্ে কারো ডাক শোনে।সে উঠে দরজা খুলে দেখে বাহিরে কে যেন তাকে ডাকছে।তারপর খেয়াল করে যে মেয়ে কন্ঠে তাকে কেউ ডাকছে।

তারপর সে ডাকটি ফলো করতে করতে পুকুর পর্যন্ত যায়,গিয়ে দেখে পুকুরে মাঝখানে সুন্দর একটি মেয়ে পানি ডুবেই যাচ্ছে সেটি তাকে বাঁচাও বলে ডাকছে।আমি ভাবলাম তাকে বললাম আরে সেইম ঘঠনা তো আমার সাথেও ঘটেছে।

কিছুক্ষণের মধ্েই সিফাত ও সিদ্দিকের কল এলো তারাও নাকি একই স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়েছে।

পরদিন সকালে আমরা সবাই একসাথে বসে গল্প করছি।আচ্ছা দোস্ত রোকন কে দেখছি না।কয়েকদিন যাবত রোকনের কোনো খুঁজ পাচ্ছি না।খালেদ বলে হয়তো সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড পেয়ে আমাদের ভূলে গেছে।হতে পারে সুন্দরী মেয়েটাকে নিয়ে সময় কাটাচ্ছে।একথা বলে আমরা চারজন হাটতে হাটতে সেই জঙ্গলের ভেতর পরিত্যক্ত পুরনো কুয়োর পাশে এসে দাড়ায়।

❌কপি করা সম্পূর্ন নিষেধ❌

রোকন তো এমন ছিল না।সে প্রতিদিনই আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখতো।আজ তাহলে কি হলো তার?আমি বলি এক কাজ কর তার বাড়িতে কল দে। তাহলেই তো।রোকনের ফোন নাম্বার তো বন্ধই তার বাড়িতে কল দিলে বলে দুদিন যাবত হলো রোকন বাড়ি তে আসে না।হয়তো কোথাও ঘুরতে গেছে।

কোথাও গেলে তো আমাদের জানাতো।তখন আতারা নাকে একটা গন্ধ আসে।কোনো কিছু পঁচে গেলে যেমন পঁচা মাংসের মতো গন্ধ আসছে।আমি সবাইকে বলি আচ্ছা তোরা কু এখানে কোনো গন্ধ পাচ্ছিস?তারা বলে নাতো।তবে সিদ্দিক বলে গন্ধ টা নাকি সেও পাচ্ছে।

আমি বললাম আরে গন্ধ টা তো এদিক থেকে আসছে।আমি সহ সবাই সেদিকে যেতে লাগলাম।কিছুক্ষন পর সবাই বলে হ্যাঁ গন্ধ টা নাকি তারাও পাচ্ছে। হাটতে হাটতে জঙ্গলের একেবারে মাঝখানে চলে আসলাম।বাহিরে রোদ থাকলেও জঙ্গলটিতে সূর্যের আলো তেমন পৌছায় না।তাই জঙ্গলের ভেতরটা খুবই অন্ধকার।

গন্ধ টা এতোটাই বেশি এখানে, যে এখানে টেকায় যাচ্ছে না।হঠাৎই আমার চোখ যায় কুয়োর পাশে কি যেন পরে আছে কাছে যেতেই সবাই দেখি সেখানে একটি ফুল ও কিছু কাগজের টুকরা পরে আছে।

সেখানে গেলেই সামনে সেই পরিত্যক্ত কুয়ো টি।সবাই কাগজের লিখাগুলো পড়ছে।আমি কুয়োর ভেতর উকি দিয়েই আতকে উঠি।ও ভয় পেয়ে যায়।দেখি কুয়োর ভেতর কিছু একটা পরে আছে।

সবাইকে ডাক দিলে তারাও এসে দেখে।সবাই বলতে থাকে আরে এটা তো একটা লাশ।তাহলে এতক্ষণ এই লাশের গন্ধ আমরা পেয়েছি।আমরা ভালো করে খেয়াল করি দেখি,যা দেখে আমরা সবাই ভয় পেয়ে যায় ও সসবারই মন খারাপ হয়ে যায়।লাশটি আর কারো নয়।লাশটি রোকনের।সবাই আমরা ভাবতে লাগলাম রোকন এখানে কিভাবে মরলো?

সবাইকে রোকনের মৃতুর খবর জানালে হয়তো ঝামেলা হতে পারে।সবাই ভাববে হয়তো রোকনকে আমরাই মেরেছি।তাই আমার ঠিক করলাম আমরা রোকনের দাফন করব।কিন্তু তার আগে তো কুয়ো থেকে লাশটি তুলতে হবে।কেউ আর ভয়ে কুয়োর ভেতর নামতে চায় না।

এক আমি ও সিফাত নামি কুয়োর ভেতর।কুয়োর ভেতরে নেমে আমাদের খুবই ভয় লাগছে।মনে হচ্ছে এই কুয়োর ভেতর কিছু একটা আছে।মানে কুয়োটির ভেতর কিছু একটা আছে যে সেটা আমি বেশ ভালো ভাবেই টের পাচ্ছি।

অভিশপ্ত কুয়ো

শেষ পর্ব

একসময় সিফাত ও আমি কুয়োর ভেতর নামি।খুবই ভয় লাগছে।এই দুপুরবেলাও কেমন যিন গা ছরছে।রোকন এর লাশটি কিছুটা পঁচে গিয়েছে।আমি ও সিফাত ভয়ে ভয়ে লাশটিকে উপরে তুললাম।সিদ্দিক ও খালেদ আমাদের সাহায্য করলো।

রোকনের লাশ দেখে আমরা খুবই কষ্ট পাই।এখন যদি এই লাশ রোকনের পরিবারের কাছি দেই।তারা তো উল্টা আমাদেরই ফাসিয়ে দেবে।তাই আমরা করলাম কি সিফাতের বাড়ি থেকে কোদাল নিয়ে কবর খুড়তে লাগলাম।একসময় ইসলামী রিতি অনুযায়ী রোকনকে আমরা দাফন করি।কবরটি ঠিক কুয়োর পাশেই।

আমি সহ সব বন্ধর মন খারাপ।এতো হাসিখুশি রোকন। যে কিনা আজ আমাদের মাঝে নেই।ভাবতেই খালাপ লাগছে।বুক ফেটে কান্না আসছে।

সবাই ভাবতেছি,রোকনকে কে মারলো?আমি ভাবলাম রোকনের গার্লফ্রেন্ড কোথায়?তাকে তো দেখা যাচ্ছে না।বেচারি রোকনের এরুপ অবস্থা হয়েছে জানলে কতটা ভেঙে পরবে।

সবাই মিলে কথা বলছি আমরা।আচ্ছা এই মৃত্যুর পেছনে কার হাত থাকতে পারে বলে মনে হয়?কে উ কিছু বলতে পারে না। সবাই যার যার মতো বাড়ি চলে যায়।আমি রাস্তার পাশে ব্রিজের উপড় বসে আছি।হঠাৎই সিফাতের কল আসে।রিসিব করতেই ওপার থেকে সিফাত বলে,তার বাড়িতে নাকি পুলিশ গিয়েছিল।তাকে জিগ্যাসাবাদ করেছে।

তোর এখানে কি পুলিশ গিয়েছে?আমি বলি কোথায় না তো।আমি কিছু বুজে উঠতে পারছি না।বাড়ি চলে আসি।মনের মধ্ে এক আতংক কাজ করছে,এই বুঝি বাড়িতে পুলিশ আসবে।

আমাদের বাড়িতে কোনো পুলিশ আসেনা।রাতের বেলা প্রতিদিনের মতো খেয়েদেয়ে ঘুমাতে গেলাম, গভীর রাতে আমি ঘুমিয়ে আছি।হঠাৎই আমার ঘুম ভাঙ্গে সিফাতের ডাক শুনে।সিফাত আমাকে ডাকছে।দরজা খুলে দেখি সাথে খালেদ ও সিদ্দিক আছে।আমি বলি তোরা এতো রাতে।

সিফাত বলে তারা সবাই নাকি একটা ভয়ানক স্বপ্ন দেখেছে।আশ্চর্যের বিষয় হলো, সবাই নাকি একই স্বপ্ন দেখেছে।তাদের কথা শুনে আমি অবাক হই।কোথায়?আমি তো কোনো স্বপ্ন দেখি নি।

তারা বলছে পুলিশ নাকি জেনে গেছে যে রোকনের লাশটি কোথায় রাখা আছে! আমি বললামকি বলিস তোরা এসব।তারা বলে কালসকালেই পুলিশ সেখানে যাবে।যদি লাশটি সেখানে পায়,তবে কি হতে পারে? তা কি তোদের ধারনা আছে?

খালেদ বলে তাই লাশটা আজ রাতের মধ্ে সেখান থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে।যেই ভাবা সেই কাজ,আমরা সবাই সেখানে যাই।গিয়ে যা দেখি, তা দেখার জন্য আমরা মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।আমরা সবাই দেখি,আমরা রোকনের লাশটি কে যেখানে মাটিচাপা দিয়েছিলাম,সেখানে রোকনের লাশটি নেই।

আশ্চর্য তাহলে লাশটি গেলো কোথায়?অনেক খুজাখুজির পর লাশটি না পেয়ে আমরা রাতের অন্ধকারে সবাই মাটিতে বসে পরি।এখন কি করা যায়।লাশটি তো এখানেই ছিল।তাহলে লাশটি গায়েব হলো কিভাবে?কেউ জানেনা এর উত্তর।

হঠাৎই আমার চোখ যায় সেই পরিত্যক্ত পুরোনো কুয়োর দিকে।আমি দেখি কুয়োর মধ্ে উপরের দিকে কি যেন ভেসে আছে দেখা যাচ্ছে কিছু একটা কুয়োর পানিতে ভাসছে।আমি প্রথমে ভয় পেলেও পরবর্তীতে যাতে কেউ ভয় না পায়,সেজন্য আমি কাওকে কিছু বলি না।আমি দেখি সেই মেয়েটি,মানে রোকনের সেই সুন্দরী গার্লফ্রেন্ড টি সেখানে বসে আছে।

আমি দেখে প্রথমে ভয় পেয়ে যাই।এতো রাতে সেই মেয়েটি এখানে কি করে?খালেদ কে বলতেই সে চমকে যায়।সেদিন খালেদ এই মেয়েটিকে দেখে তার দিকে লোভনীয় দৃষ্টিতে দেখছিল।আজ সে বলেই ফেলে,ডাইনি তুই আমাদের বন্ধুকে মেরেছিস।

তুই ডাইনি।কি ক্ষতি করেছিল ও।কেন মারলি তাকে?মুহূর্তের মধ্ে সেখানের পরিবেশ বদলে যায়।মেয়েটি সেই কুয়োতে লাফিয়ে পরে।

আমি সত্যি ভয় পেয়ে যাই।ও অবাকও হয়ে যায়।সিদ্দিক তো ভয়ে কাঁপছে।আর বলছে আমাকে কিছু করো না।আমি কিছু করিনি।সবাই দৌড়ে সেই পরিত্যক্ত কুয়োর কাছে যাই,গিয়ে কুয়োর ভেতর উকি দেই।মেয়েটি সেই কুয়োর ভেতরে নেই।পানিতে কি যেন ভাসছে।

ভালো করে খেয়াল করলে দেখি,রোকনের লাশটি আবারো কুয়োর পানিতে ভাসছে।সিফাত, সিদ্দিক, খালেদ ও আমি সবাই ভয় পাই।কে কি করবে, কিছুই বুঝতে পারছি না।আমরা দেখি কুয়োর ভেতর কেউ নেই তবুও ভেতর থেকে মেয়েটির ভয়ানক চিৎকার ভেসে আসছে।খুবই ভয়ানক সেই চিৎতার।

কখনো চিৎকার কখনো কান্নার আওয়াজ আসছে সেই কুয়ো থেকে।আমিও খুব ভয় পেয়ে যাই।

আমরা সবাই বলতে লাগলাম শয়তান তুই কে?কি চাস?কেন মারলি আমাদের বন্ধুকে?কুয়োর ভেতর থেকে কোনো সারা পাওয়া গেল না।

চারিদিক অন্ধকার ছেয়ে আছে।কোথেও কিছু দেখা যাচ্ছে না।জঙ্গলের ভেতর এতো বেশি বাতাস বয়ছে।অথচ আশেপাশে সব গাছ নরছে না।মানে জ্বড়ো বাতাস টটি শুধু জঙ্গলটির উপরেই ছিল।

হঠাৎই আমাদের সবার সামনে সেই পুরনো কুয়ো থেকে ভয়ানক এক অশরীরী খারাপ আত্না উঠে এলো।সেই আত্না টি এতোটাই ভিবৎস ছিল।আমি খুবই ভয় পেয়ে যায়।ভয় পেয়ে চিৎকার করতে থাকি।সিদ্দিক তো ভয়ে দৌড়ে অন্ধকারে কোথায় যেন মিশে গেল।এখন আমরা তিনজন।খালেদ, সিফাত ও আমি।

আমরা কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই,দেখি সেই অশরীরী টি ভয়ানকভাবে হাসছে।সেই হাসিতে আমরা আরো ভয় পাই।এখন আর খারাপ সেই ভয়ানক আত্নাটিকে কোনো দিক থেকে মেয়েটি মনে হচ্ছে না।

ভয়ানক আত্নাটি শূন্যে ভাসছে।পুরো জঙ্গলটি ভয়ানক এক পরিবেশে পরিনত হয়েছে।আমরা কিছু বুঝে উঠার আগেই,সেই খারাপ বিভৎস দেখতে আত্নাটি আমাদের দিকেই আসছে।আর ভয়ানক সেই হাসি দিচ্ছে।

সিফাত দৌড়াচ্ছে,আমি তার পিছনে দৌড়াচ্ছি আমার পেছনে ছিল খালেদ।এতো রাতে যে আমাদের জন্য এতো ভয়ানক কিছু অপেক্ষা করছিল,এটা জানলে কখনোই এতো রাতে এই কুয়োর কাছ আসতাম না।

এসব ভাবতে ভাবতে তিনজনেই দৌড়াচ্ছি।হঠাৎই আমার পেছনে খালেদের চিৎকার শুনতে পাই।খালেদ বার বার বলছে বাঁচাও।বাঁচাও।

আমি ভয়ে পেছনে তাকেতি পারিনি।প্রাণভয়ে ওসমানের দিকে দৌড়াতে থাকি।সিফাত ও আমি দৌড়ে পাশের এলাকার একটা মসজিদের কাছে চলে আসি।

পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি,ভয়ানক সেই আত্নাটি আমাদের দিকেই আসছে।আমি খুবই ভয় পাচ্ছি ।সমানে আল্লাহর নাম নিচ্ছি।

সিফাতও দৌড়াতে দৌড়াতে হাফিয়ে গেছে।দেখি খারাপ আত্নাটি আমাদের খুব কাছেই চলে আসে।আমরা মসজিদে আছি দেখে।সেটি চলে যায়।হাফ ছেড়ে বাচি দুজনে।ভাবছি হয়তো খালেদকে মেরে ফেলেছে।

মসজিদ থেকে বের হতেই দেখি।রোকনের সেই গার্লফ্রেন্ড টি পাশেই একটি গাছের নিচে দাড়িয়ে আছে।আমি বিষয়টা বুঝতে পারি।ও সেদিকে না গিয়ে সোজা আমার বাড়ি চলে আসি।পেছন ফিরে তাকিয়ে দেখি সিফাত নেই।

সিফাত কে খুঁজতে খুজতে আমি আমাদের শেউড়া গাছ পর্যন্ত যাই।দেখি সিফাতকে সেই খারাপ ভয়ানক দেখতে মেয়েটি ঘাড় মটকে দিয়েছে।

এখন শুধু আমি আছি।আমি ভয়ে চিৎকার দিয়ে ঘরে প্রবেশ করি।দরজা লাগিয়ে বিছানাতে বসে পরি।হঠাৎই দরজায় প্রচন্ড ভাবে কে নক করছে।আমি খুবই ভয় পাই। দরজা খুলব কি খুলব না।সাহস পাচ্ছি না।

হঠাৎই শুনি সিদ্দিক বলছে দরজাটা খোল।আমি ভাবলাম সিদ্দিক তো কুয়োর পাশ থেকে কোথায় যেন দৌড়ে পালিয়েছিল।সে এতক্ষণ পর কোথা থেকে এলো।আমি ভয়ে ভয়ে ঘর থেকে বের হয়।দেখি সিদ্দিক বলছে দোস্ত চল রোকনের গার্লফ্রেন্ড কে দেখে আসি।এটা শুনে আমি অবাক হয়ে যায়।

সমাপ্ত।


Post a Comment

0 Comments