হিজল গাছের ভূত


আজ কলেজে সিফাতের প্রথম দিন।সিফাত কলেজে প্রবেশ করতেই একটি মেয়ের সাথে ধাক্কা খায়।মেয়েটির হাতে থাকা বইগুলো মাটিতে ছিটকে পরে যায়।


সরি! বলেই সিফাত বইগুলো তুলে মেয়েটির হাতে দেয়।কিন্তু মনে হচ্ছে মেয়েটি তাতেও তার প্রতি রেগে আছে।


সরি বললেই সব সমাধান হয়ে যায় নাকি?মেয়ে মানুষ দেখলেই গায়ে পড়তে হয়?আপনার মতলব টা কি??সিফাত বলে আমি দেখিনি।তাছাড়া আপনিই তো এসে ধাক্কা খেলেন এখন আমাকেই বলছেন,আমি কেন ধাক্কা দিলাম।কিছুক্ষণ চলে তাদের তর্ক।মেয়েটি আর কিছু না বলে শেষে চলে যায়।


সিফাত বলে কি আজব মেয়ে।একে তো নিজেই পরে গেল।আবার আমাকে দোষারোপ করে।সিফাত পড়ার কক্ষে যায়।ক্লাসে বসে।সে যেখানটাই বসেছে।


পাশেই জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালেই সিফাতের নজরে আসে একটি হিজল গাছ।হিজল গাছটি স্থির হয়ে দাড়িয়ে আছে।


এর সাথেই একটা ফুল গাছ আছে।খুবই সুন্দর সুগন্দ আসছে সেখান থেকে।আজ তার মেজাজ টা ভালো নেই।প্রথমদিনেই ধাক্কা লাগে মেয়ের সাথে।


সিফাতের নজর বারবার হিজল গাছটির উপর যায়।প্রথম দিনের মতো ক্লাস শেষ করে সিফাত বাসায় ফিরে।পরদিন কলেজের পাশে সেই হিজল গাছটির পাশে দাড়ায়।হঠাৎই সিফাত হিজল গাছটির খুবই কাছে এসে দাাড়ায়একসময় সে খেয়াল করে হিজল গাছের পাশে ফুলগাছ থেকে একটি মেয়ে ফুল তুলছে।


সিফাত দেখে চোখ সরাতে পারেনা।এতো সুন্দর মেয়ে সে এর আগে দেখেনি।আরে এ মেয়েএ মেয়টির সাথেই তো গতকাল তার ধাক্কা লাগে।মেয়েটির দুচোখে মায়া মায়া একটা ভাব।একসময় মেয়েটি তার দিকে তাকায়।কলিজায় এসে লাগে সিফাতের। আহ কি চাহনি। এতো বেশি সুন্দর কিভাবে একটি মেয়ে হয়?


সিফাতের খুব মনে ধরে মেয়েটিকে।মেয়েটি সেখান থেকে চলেই যাচ্ছিল সে সময় সিফাত পেছন দৌড়ে যায় কিন্তু মেয়েটিকে আর কোথাও দেখতে পাওয়া গেল না।


ঠিক সেসময় সিফাতের ঘুম ভেঙ্গে যায়।দূর ছাই এতো সুন্দর একটা মুূহূর্ত সেটা স্বপ্নের মধ্েই হওয়া লাগে।পরদিন সময় মতো সিফাত কলেজে যায়।ক্লাসরুমে ডুকতেই হিজল গাছটি তার নজরে আসে।


ক্লাস চলাকালীন সময় হঠাৎ সিফাত খেয়াল করে পাশের হিজল গাছটির গোড়ায় একটি মেয়ে অন্য দিকে মুখ ফিরে বসে আছে।


সিফাত ভাবেএটা কি সেই মেয়েটি?যে মেয়েটিকে সিফাত রাতে স্বপ্ন দেখেছিল।সিফাত ক্লাসরুম থেকে বের হয়।এবং এক সময় মেয়েটির কাছে যায়।


আরে তাইতো।এ তো তার স্বপ্নে দেখা সেই মেয়েটি।সিফাত বললো কে আপনি?মেয়েটি কোনো উত্তর দেয় না।সিফাত বলে কি হলো আপনি কথা বলছেন না কেন।


হঠাৎ মেয়েটি কথা বলে আপনি কি এই কলেজে নতুন?সিফাত বলে হ্যাঁ নতুন।তবে আপনি কে?আপনি এখানে কি করেন?


মেয়েটি বলে তার নাম সালেহা।সালেহার সাথে সিফাত গল্প করে।গককালের ধাক্কা লাগার জন্য দুজনেই সরি বলে। একসময় রুজন দুজনকে পরিচয় দেয়।আচ্ছা আপনার বাসা কোথায়?


সালেহা বলে এই কলেজই আমার সবকিছু।সিফাত বলে উঠলো, কলেজ মানে?সালেহা বলে মানে কলেজের পাশেই তার বাসা।তাই বলেছে কলেজটি তার বাসা।


গল্প শেষ করে দুজন বিদায় নিল।সিফাত বারবার শুধু সালেহাকে নিয়েই ভাবছে।পরদিন সিফাত কলেজে গিয়ে সারা কলেজ খুজেঁ না পেয়ে হিজল গাছের নিচে যায়।মেয়েটি হিজল গাছে হেলান দিয়ে কি যেন করছে।


সিফাত বলে আপনি এখানে ?আর আমি আপনাকে পুরো কলেজ খুজেছি।আপনাকে শুধু এই গাছটির নিচে বসে থাকতে দেখি।কি করছেন এখানে?


সালেহা বলে কিছু না।বসে আছি।কেন খুজেন?কেন খুজেন আমাকে?


সিফাত সাহস করে বলেই ফেলে আপনাকে আমার ভালো লাগে


সালেহা বলে।ভালো লাগে?সালেহা হাসে।সে হাসি যেন থামতেই চাইছে না।হাসি থামিয়ে,বিয়ে করবেন আমাকে?কি হলো কিছু বলছেন না কেন?সালেহা আবারও বললো কি হলো?বিয়ে করবেন আমাকে?


সিফাত ভাবছে ভাবছে সে স্বপ্ন দেখছে না তো আবার ।নিজের হাতে ছোট করে একটা চিমটি কাটে ।ওহ্ ।সিফাত একটু ভেবে বলে ফেলে হ্যাঁ। আপনাকে আমি বিয়ে করব।


সালেহা বলে তাহলে আজই আমাকে বিয়ে করতে হবে।সিফাত বলে আজ কেন?আমার তো আপনার সাথে দুদিন হলো পরিচয় হলো।সিফাত সালেহা কে জিগ্যেস করে,আচ্ছা আপনার পরিবারে কে কে আছে?


সালেহা মন খারাপ করে বলে তার পরিবারে কেউ নেই।সে একা।এটা শুনে পলাশ জানতে চাই তারা কিভাবে মারা গেল।


সালেহা বলে একরাতে সবাই ঘরে ঘুমিয়ে ছিল।হঠাৎই ঘরে কিভাবে যেন আগুন লেগে যায়।তাতে সবাই অগ্নি দগ্ধ হয়ে সবাই মারা যায়।


সিফাত বলে আচ্ছা তখন আপনি কোথায় ছিলেন?যখন ঘরটিতে আগুন লাগে।


সালেহা বলে,তখন সে জেগে ছিল।দৌড়ে সে বেড়িয়ে পরে ঘর থেকে।তাই সে বেচে যায়।


সিফাত বলে,আমি তো বাসা নিয়ে থাকি না।আপনাকে আমার বাড়ি যেতে হয়।


এভাবে হুট করে তো আর বিয়ে করা যায় না।আমাকে একটু সময় দিন।আমি আপনাকে জানাব।


না,,,, তা হবে না !!!!সালেহার এক জবাব।আমাকে যেহেতু আপনার পছন্দ হয়েছে।আমাকে আপনি ভালোবাসেন,তাহলে আজই আমাকে বিয়ে করতে হবে।


দেখুন আমাকে আপনার পছন্দ যেহেতু হয়ে গেছে সেহেতু আমাকে আপনার বিয়ে আজই করতে হবে।


সিফাত আর না করতে পারলো না।সালেহার জোড়াজোড়িতে সে বলেই ফেললো হ্যাঁ আমি আপনাকে আজই বিয়ে করব।


আপনাকে তো আমাদের বাড়ি যেতে হবে।সালেহা বললো ঠিক আছে।


সিফাত ভাবে ,সালেহা এতো সুন্দর দেখতে।তাকে সে কোনও ভাবেই হাতছাড়া করতে চায় না।


সালেহা কে সাথে নিয়ে ট্রেনে চড়ে বাড়ি যাচ্ছে সিফাত।ট্রেনের মধ্ে তাদের দুজনের অনেক গল্প হয়।অনেক হাসি ঠাট্টা ও চলে।


সিফাত বলে আচ্ছা এখন তাহলে দুজনে দুজনকে তুমি করে বলবো।মানে তুমি করে ডাকবো।


সালেহা বলে ঠিক আছে।


সিফাত বলে দেখি তো।আরে এটা কি?এটা কিসের দাগ আপনার গলায়?


সালেহা বলে ,ও আচ্ছা এই দাগ?দাগটা আমার জন্ম দাগ।কেন? কোনো সমস্যা?


সিফাত বলে আরে না।


একসময় তারা দুজনেই সিফাতের গ্রামের বাড়িতে পৌছে যায়।গ্রামের বাড়ি থেকে তাদের দুজনকে সবাই বরন করে নিল।


সালেহা কে নিয়ে যখনই সিফাত বাড়িতে প্রবেশ করছে,ঠিক তখনি সিফাতের বাড়ির আশেপাশে বিরাট ঝ্বড় তোফান বয়ে যায়।মনে হচ্ছে সবকিছি এইবুঝি উড়ৈ যাবে।


সিফাতের বাড়িতে তার মা বাবা ও তার বড়ভাই ভাবি ও ছোটবোন।সিফাতের সাথে ফুটফুটে চেহারার সালেহা কে দেখে সবাই খুবই খুশি।


তাদের বাড়ির আশেপাশে থেকে যারা এসেছিল,তারা সবাই কানাঘুষা করছে।মেয়ে তো খুবই সুন্দর। তবে বাড়িতে প্রবেশ মাত্রই যে ঝড়ো হাওয়াটি বয়ে যাওয়া।এটা কিন্তু ভালো না।অশুভ লক্ষন।


তবে তাদের দুজনকা কিন্তু খুব সুন্দর মানিয়েছে।

একসময় তারা ঘরে প্রবেশ করে।


সন্ধ্যা বেলা সিফাত ও সালেহাকে পাশাপাশি বসিয়ে গায়ে হলুদ ও গোসল সম্পন্ন করা হচ্ছে। সে সময় সিফাতের বাড়ির চারপাশে গাছগুলো ঝড়ো হাওয়াতে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম।


কেউ বলছে এ্্্ররে এটাতো শুভ কাজের মধ্ে আশুভ লক্ষন। গোসল সেড়ে দু্জনকে বিয়ের সাজে সাজানো হলো।


সালেহাকে একটা লাল শাড়ি তে দেখে সিফাত আরো আবাক।আরে এ তো পুরাই পরি মনে হচ্ছে। এখন সালেহা কে আরো সুন্দর লাগছে।


সেফাতও প্রস্তুত বরের সাজে।


সবাই বলতে থাকে বাহ দুজনকে তো খুব সুন্দর মানিয়েছে।


বিয়েতে সিফাতের পুরো পরিবারের লোকজন থাকলেও,সালেহার পরিবার থেকে কেউই বিয়েতে নেই।আর এ বেপারটা সিফাতের ভাবির ভালো লাগে না।


সিফাতের ভাবি মুখে বলেই ফলে।কোথা থেকে কোন গরিব একটা মেয়ে কে ধরে নিয়ে আসছে।


যার গার্ডিয়ান রা কেউ এলো না।সে মেয়ে ভালো ঘরের মেয়ে হয় কি করে?


এসব মন্তব্ সবাই শুনছে।কিছুক্ষণের মধ্ে সেখানে প্রচন্ড বাতাস বইতে থাকে।বেপার টা কারো কাছেই ভালো লাগছে না।কোনো কারন ছাড়াই বারবার বাতাস বইছে।তাও আবার কিছুক্ষণ পরপর এভাবে বাতাস আসা এটা অশুভ লক্ষন

সিফাত ও সালেহার বিয়ে সম্পন্ন হয়।


অনেক সুন্দর করে সাজানো বাশরঘর।কিন্তু রাতে তাদের বাসর ঘরে যাওয়ার সময় বাসার ভাবি ও অন্যান্ ছোট বড় ছেলেমেয়েরা পথ আটকে দাড়ায়।


যতক্ষণ না তাদের দাবি মেটানো হবে,ততক্ষণ তারা সিফাত ও সালেহা কে যেতে দিচ্ছে না রুমে।তাদের দাবি কিছু টাকা কমে হবে না।পুরোটাই দিতে হবে।


এখানে টাকা দিয়ে সামনে যেতে লাগলো তারা।তখনই সামনে আরো দুএকজন দাড়িয়ে আছে।


তাদের ও দাবি একটাই।দাবি করা টাকা দিলেই ছারবে তারা।


একসময় সিফাত সেখানেও টাকা দিয়ে রুমে প্রবেশ করে।


সালেহাকে বলে তুমি বসো আমি ফ্রেশ হয়ে আসি।


সিফাত ফ্রেশ হয়ে আসে।দেখে সালেহা বড় একটা ঘুমটা দিয়ে বসে আছে।


সিফাত বলে বাহ সুন্দরী এতো লজ্জা এতোদিন কোথায় ছিল এই বলে সে সালেহার কাছে গিয়ে।ঘোমটা টি যেই না তুলতে যাবে,ঠিক তখনই দরজায় কে যেন নক করছে?


সিফাত রাগে,দ্যাত ছাই এইসময় আবার কে?


সিফাত গিয়ে দরজা খুলে দেয়।আরো এক দল চলে আসছে।তাদেরকে ও নাকি টাকা দিতে হবে।সিফাত আগের মতো এদেরকেও টাকা দিয়ে বিদায় করে।


সালেহার হাতে একটা দুধের গ্লাস।এই যে নেন দুধটুকু খেয়ে নেন।সিফাত গ্লাস টা নিয়ে দুধ অর্ধেক খেয়ে নিল।


গ্লাস থেকে দুধ খাওয়ার পরপরই সিফাত বিছানায় শুয়ে পরে।তার খুব ঘুম ঘুম পাচ্ছে। একসময় সিফাত ঘুমিয়ে পরে। সিফাত ঘুমিয়ে আছে।


সালেহা আস্তে আস্তে রুম থেকে বেরিয়ে যায়।সালেহা সোজা চলে যায় তার ভাবির রুমে।সেখানে গিয়ে দেখে।তার ভাবি টিভি দেখছে।


হঠাৎই তার ভাবি খেয়াল করে ঘরের জানালাটি কাপছে।রুমের লাইট বন্ধ করে রাখা হয়েছে।তাই রুমে একটা ড্রিম লাইট জ্বলছে।


তার ভাবি দেখে হঠাৎই। বাতাস বইছে।জানালার পর্দা টা বাতাসে উড়ছে।জানালার পর্দাটা উড়ছে।


সালেহা হঠাৎই বদলে যায়।সালেহার গলা থেকে সেই কাটা দাগটি আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে।সালেহার গলা থেকে একটা বড় মাকড়শা বের হয়।মাকরশা টি দেয়াল বেয়ে উপরে উঠতে থাকে।


একসময় মাকরসাটি বর হতে থাকে।মাকরশা টি জানালার পর্দার কাছে যায়।সেখানে জানমালের প্র্দা টি মাকরসাটির গায়ে পেঁচিয়ে ফেলে।


তখনও জানালার পর্দাটা উড়ছে।মাকরসাটি সুতা পেঁচিয়ে একসময় ফেন পর্যন্ত চলে যায়।


একসময় তার ভাবি দেখে সালেহা তার রুমে দাড়িয়ে আছে।


সালেহা এখন সালেহা নেই।খুবই ভিবৎস চেহারা।খুবই ভয়ানক দেখতে।


সালেহা তার দিকে তাকিয়ে আছে।হঠাৎই মাথার উপর ফুল স্পিডে চলন্ত ফেন টি তার ভাবির মাথায় উপর ছিরে পরে।


ওমাগো বলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে তিনি।


সিফাতের ভাবির চিৎকারে বাড়ির সবাই চলে আসে।সবাই এসে দেখে সালেহা ভাবির সামনে দাড়িয়ে আছে।তখন সালেহা দেখতে স্বাভাবিক ছিল।


সবাই বলছে কি বেপার তুমি এই রুমে কি করছো?সালেহা বলে কই আমি তো এইমাত্র আসলাম।আপনাদের সাথে।সিফাতের ভাবির কপাল ফেটে রক্ত পরছে।তিনি সবাই কে এটা বোঝাতে চাচ্ছেন যে সালেহা আসলে মানুষ না।খারাপ কিছু একটা।


তার ভাবি কথা বলতে পারছে না।শুধ হাত উচু করে সালেহার দিকে ইশারা করছে।সবাই সালেহার দিকে তাকায়।কিন্তু কেউই কিছু বুঝতে পারে না।


সিফাত বলে ভাবিকে তারাতারি হাসপাতালে নিতে হবে।সবাই ধরাধরি করে তার ভাবিকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।


সিফাত বলে সালেহা তুমি কি করেছো?ভাবি তখন তোমার দিকে ইশারা করেছিল।


সালেহা রাগে বলে আমি কিভাবে বলবো তোমার ভাবি কি বলতে চেয়েছিলেন।তুমি বরং তাকে গিয়েই জিগ্যেস করো গিয়ে।


বেচারি তো কথাই বলতে পারে না।


সবাই সলেহার দিকে তাকিয়ে আছে....

একি ভাবি আপনার গলায় যে দাগটি ছিল।সেটি তো এখন বড় বড় লাগছে।মনে হচ্ছে দাগটি বড় হচ্ছে।


কই না তো।ঠিকই আছে।সিফাত ও সালেহা বাড়িতে ফিরে আসে।সালেহা এবার তার গলায় একটা কাপড় পেছিয়ে রাখে।যাতে গলার কাটা দাগটি সহজেই কেউ না দেখতে পারে।


সিফাত একটু কাজে বাহিরে গেছে।তখন সিফাতের মা বলে বউমা তুমি একটু তরকারী টা রান্না করো গিয়ে।আমি একটু পাশের বাড়ি যাচ্ছি কাজে।


সালেহা রান্না করতে বসে যায়।সালেহা চুলার ভেতর একটা পা ডুকিয়ে দেয়।তাতেই চুলার আগুন জ্বলছে।সিফাতের মা বের হয়েছিল পাশের বাড়ি যেতে।কি একটা প্রয়েজনে আবার আসামের হলো তাকে।


সিফাতের মা রান্নাঘরের দিকেই যাচ্ছে। ঠিক তখনই তিনি দেখেন যে সালেহা বসে রান্না করছে।কিন্তু তার একটা পা চুলার ভেতর।


এটা দেখার পর সিফাতের মার অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়।সে চিৎকার দিয়ে মাটিতে পরে যায়।


সিফাত খবর পেয়ে দৌড়ে আসে তার মাকে দেখতে।তার মা তখনো অচেতন হয়ে আছে।


ধরাধরি করে বেচারিকে রুমে নেওয়া হলো।তখনও তিনি অচেতন অবস্থায় পরে আছে।


এত কিছুই ঘটে যাচ্ছে । সিফাত কিন্তু এসবের কিছুই জানেনা। এক সময় সিফাত বলে আরে তোমার তো দেখছি গলার কাটা দাগটি অনেক বড় হয়ে গেছে। দেখি দেখি বলতেই সালেহা বলে না সব ঠিক আছে।তুমি চিন্তা করো না তো।


সালেহা কাটা দাগটি ঢেকে ফেলে উড়না দিয়ে।


তিনদিন পর।হাসপাতাল থেকে খবর এলো সিফাতের মা সুস্থ হয়ে গেছে।এটা শুনে তো সালেহা অবাক হয়ে যায়।


সিফাত সালেহা কে সাথে নিয়ে হাসপাতালে যায়।হাসপাতালের বিছানায় তার মা শুয়ে আছে।সিফাতের সঙ্গে সালেহাকে দেখে,তার মা খুবই ভয় পায়।


তার মা সালেহার বেপারে সিফাতকে বলতেই যাবে।অমনি তার মায়ের গলায়।ওড়নাটি শক্ত করে পেচিয়ে যায়।সেটা অদৃশ্য কোনো শক্তি দিয়ে।


তাই তার মা আর কিছু বলতে পারে না।


একরাতে সিফাত সালেহা ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎই সিফাতের ঘুম ভাঙ্গে।সে জেগে বিছানায় দেখে সালেহা নেই বিছানাতে।

সে বিছানা ছেড়ে উঠে।দেখে আশেপাশে কোথাও নেই সালেহা।


গেল কোথায় মেয়েটি।আশ্চর্য। এভাবে খুজতে খুজতে হঠাৎই সিফাত দেখে যে,সালেহার মতো কাওকে দেখা যাচ্ছে।


যে কিনা পাশের বাড়ির একটা ঘরের বেড়ার ফাকা অংশ দিয়ে কি যেন দেখছে।আরেকটু কাছে যেতেই,আরে এটা তো তার সালেহাই।এতো রাতে কি করছে এখানে সালেহা।


আরেকটু কাছে গিয়ে ডাক দেয় সিফাত।এই সালেহা।কি হলো ?এতো রাতে তুমি কি করছো এখানে?কি হলো কিছু বলছো না কেন?


সিফাত এতো ডাকছে তবুও তার দিকে একবারও ঘুরে তাকায়নি।একসময় সিফাত সালেহার ঘারে হাত রেখে বলে।কি হলো তুমি এতো রাতে এখানে কি করছো?


আর ঠিক তখনই সালেহা তার দিকে ফিরে তাকায়।আর। সেটা দেখে সিফাত এতোটাই ভয় পায়।দেেখে সালেহার গলা কাটা।গলা দিয়ে রক্ত পরছে।তার চোখের জায়গায় চোখ নেই

কি ভয়ানক দেখতে।


এটা দেখেই সিফাত চিৎকার দিয়ে এক দৌড়ে ঘরে চলে আসে।দরজা লাগিয় চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষন সেখানেই দাড়িয়ে থাকে।


আর চোখ খুলতেই দেখে সালেহা তার সামনে দাড়িয়ে আছে।


ভয়ে সিফাত কেপে উঠে।


সালেহা বলে কি হয়েছে তোমার এমন করছো কেন?সিফাত বলে কিছুনা।কিছুই বলেনা সে সালেহা কে।


সে কি দেখলো এটা?এইতো কিছুদিন হলো এলাকার এক মহিলা তাকে বলছিল ,মিয়া বিয়া করছো ভালো কথা।তয় তোমার বউ কিন্তু আর দশটা বউএর মতো না।অস্বাভাবিক কিন্তু তোমার বউ।


এখন সে এটা ভাবছে।সালেহার দিকে তাকায়। দেখে সালেহার গলায় কাপরটি নেই ওড়নাও নেই।তাতে ভালো করে দেখা যাচ্ছে সালেহার য়লায় যে কাটা দাগটি ছিল।সেটি এখন অনেক বড় হয়ে গেছে।


সিফাত এ বিষয়ে সালেহা কে কিছু বলে না।সিফাত একসময় বলেই ফেলে তোমার দাগটা তো অনেক বড় হয়ে গেছে।সত্যি করে বলো এটা কিসের দাগ।বলো।কি হলো কিছু বলছো না কেন?


সালেহা অন্য দিকে মুখ ফিরে তাকিয়ে আছে।একসময় সালেহার চুপ করে থাকার জন্ সালেহার গালে কসিয়ে একটা থাপ্পড় দেয়।


এতোবার বলার পরেও যদি বউ কথা না বলে,কার না রাগ উঠবে বলুন।


সিফাত সালেহাকে চড় দেওয়ার সাথে সাথে সালেহা বদলে যেতে শুরু করলো।আমাকে মারলি।আমাকে মারলি।অদ্ভুত এক হাসি দিচ্ছে। হা হা হা হা।হাসতেই থাকে।যেন ভয়ানক এ হাসি থামতেই চাইছে না।


সালেহা একটা অশরীরীর রুপ নিল।যেটা দেখতে খুবই ভয়ানক ছিল।


হিজল গাছের ভূত

শেষের অংশ


সালেহা মূহুর্তের মধ্ে শুণ্যে ভাসতে লাগলো।সিফাত বলছে তুমি কে?কি চাও তুমি?


সালেহা কিছু বলেনা শুধু হাসে।ভয়ানক ভাবে হেসেই যাচ্ছে।সালেহা হঠাৎ বলে তোর ভাবিকে পেরালাইজড বানিয়ে দিয়েছি।তোর মাকেও বোবা বেনিয়ে দিয়েছি।যাতে কাওকে কিছু না বলতে পারে।


এখন তোকে শেষ করে ফেলব।


সিফাত বললো তুমি না আমাকে ভালোবাসো?তাহলে কেন মারতে চাইছো আমায়?


সালেহা বলে তোকে আমি আমার সাথে নিয়ে যাব।হাহাহাহা বলে হাসতে থাকে।


হঠাৎ সিফাত রুমে পরে থাকা একটা চাকু হাতে নেয়।আর বলতে থাকে খবরদার।আমার দিকে এগোবে না।খবরদার বলছি।

সালেহা কিছু শুনতে চায় না।বিকট আওয়াজে বলতে থাকে।ভূতের সাথে ভালোবাসা?আমি তো কবেই মরে গেছি।


তুই কি মারবি আমাকে। মার ।মার দেখি।সিফাত কোনো কিছু না করে ঘর থেকে পালাতে যায়।ঠিক তখনই সালেহা কান্না আর হাসি একসাথে করতে করতে সিফাতকে ধরে ফেলে।


সালেহার গলার কাটা দাগটা বড় হয়ে গেছে।সেখান থেকে একটা বড় মাকরসা বেরিয়ে আসে।ও সিফাতকে মাকরসাটি মেরে ফেলতেই যাবে।কিন্তু তখনি সালেহার ভূতটি মারতে দেয় না।


সিফাত কে পেরালাইজড বানিয়ে দেয়।

কাওকে কিছু বলতে পারবি না।না পারবি কাওকে জানাতে।সালেহার ভূতটি চলে যায় আবার হিজল গাছে।


এরপর একবছর কেটে যায়।


সেই কলেজে আজও একটা নতুন ছেলে ভর্তি হয়।প্রথম দিন কলেজে ডুকতেই একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে ছেলেটির ধাক্কা লাগে।


সমাপ্ত

Post a Comment

0 Comments